ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের উদ্বোধনী দিনে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অবদান রাখা ৫৮ গুণীজন ও তিনটি ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অভিনয়, পরিচালনা, সংগীত, চিত্রগ্রহণ ও চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীজনদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আয়োজনে শনিবার বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। একই আয়োজনে রাজধানীর মধুমিতা সিনেমা হলে দর্শকদের জন্য বাংলাদেশের স্মরণীয় ১৩টি সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
জীবিত গুণীজনদের মধ্যে অভিনেত্রী হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন সুজাতা, সুচন্দা, আনোয়ারা, ববিতা, নূতন, চম্পা ও শাবনাজ। অভিনেতাদের মধ্যে রয়েছেন উজ্জ্বল, সোহেল রানা, আলমগীর, খাজা নাঈম মুরাদ ও আজাদ রহমান শাকিল।
এ ছাড়া গীতিকার, সংগীতশিল্পী, সংগীত পরিচালক, চিত্রগ্রাহক ও পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য আরও কয়েকজন গুণীজনকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি পরিচালক আবদুল জব্বার খান, জহির রায়হান, খান আতাউর রহমান, এহতেশাম, আমজাদ হোসেন, সুভাষ দত্ত ও চাষী নজরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
মরণোত্তর সম্মাননা পাওয়া অভিনেতাদের মধ্যে রয়েছেন নায়করাজ রাজ্জাক, খলিল উল্লাহ খান, রোজী আফসারী, প্রবীর মিত্র ও বুলবুল আহমেদ। গীতিকার, সংগীত পরিচালক, সংগীতশিল্পী, চিত্রগ্রাহক ও চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় অবদানের জন্যও বেশ কয়েকজনকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী লায়ন সিনেমা হল, আজাদ সিনেমা হল ও মধুমিতা সিনেমা হলকেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
উৎসবের উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ প্রদর্শিত হয়েছে। ২৩ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন দিনে বাংলাদেশের স্মরণীয় বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, ডিএসসিসির প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামসহ চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
